June 13, 2026, 12:01 am

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬৭১ কোটি টাকা কম। প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৭ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১১ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।
নদী খনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় কর্মসূচি/
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। বর্তমানে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩০৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও মেরামত এবং ফ্লাড ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮৪ কিলোমিটার নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি ও ডুবোচর অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি বিভাগে নদী পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা
নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি নদী বা জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
বর্তমানে ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বারনই নদী পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি হাওর-বাঁওড় অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা কমাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সাত বছরে বাস্তবায়ন হবে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে আগামী সাত বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এর আওতায় চারটি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা সুবিধা পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।